
মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের সুপারিশ
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কার্যক্রম আরও জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান এবং উভয় বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দ্রুত বিচার, দাঙ্গা, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি, সিঁধেল চুরি, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানসংক্রান্ত অপরাধের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব তথ্য-উপাত্তে আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এ অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে সারা দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। সাইবার অপরাধ দমনে পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনসহ অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করে কমিটি। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. নূরুল ইসলাম রাজধানী ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রম এবং এ-সংক্রান্ত অগ্রগতি তুলে ধরেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে বৈঠকে অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অপরাধভিত্তিক নির্দিষ্ট সংখ্যা বা শতকরা হারের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কোন অপরাধ কতটা কমেছে বা বেড়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
Leave a Reply