
সরকারি প্রকল্পের ড্রেজার ও উপকরণ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত খাল ভরাট ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। এতে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তোবারক হোসেন পদ্মা সেতুর উত্তর পাড়ে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পে জিও ব্যাগ ভরাটের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু সম্প্রতি রাতে তিনি সরকারি ড্রেজার ব্যবহার করে নিজ বাড়ির পাশের সরকারি খাস জমির একটি খাল ভরাট করে দখল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা জুলহাস বেপারী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, জুলহাস বেপারীর ছোট বোনের দেবর বাবু মোল্লা এ কাজে দালালি করেছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনুমতি ছাড়াই খাল দখল করেছেন। এক সময় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে বৃষ্টির পর পানি দ্রুত নেমে যেত, কিন্তু খাল ভরাট হওয়ায় এখন সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও, গাওদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট নায়েবের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জুলহাস বেপারী জানান, “আমি এরকম কোনো কাজে জড়িত নই। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।”
অন্যদিকে, একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত বাবু মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
তোবারক মেম্বার বলেন, “তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সঠিকভাবে যাচাই করুন।”
তবে লৌহজং সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না। তবে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং খালটির স্বাভাবিক অবস্থা পুনরুদ্ধার করা হোক।
Leave a Reply