
আজ ১০ই সেপ্টেম্বর শহিদ ল্যান্স নায়েক মো. আবেদ আলী, বীর বিক্রম-এর ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী। দেশের স্বাধীনতা ও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার অভিযানে অসীম সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের জন্য তিনি আজও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
১৯৮৮ সালে তিনি ১২ ইস্ট বেঙ্গল (দি স্ট্রাইকিং টুয়েলভ)-এর সদস্য হিসেবে রাঙামাটির জুরাছড়ি জোনে কর্মরত ছিলেন। ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেজর শহীদ আহমেদের নেতৃত্বে একটি টহল দল মদইন্যাপাড়া ক্যাম্প থেকে শান্তি বাহিনীর অবস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। অত্যন্ত সাহসী সেনাসদস্য হিসেবে পরিচিত আবেদ আলী ওই অভিযানে এক নম্বর স্কাউটের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দুর্গম পাহাড় ও ঘন অরণ্যের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় আনুমানিক সকাল ১১টায় টহল দল শান্তি বাহিনীর পূর্বপরিকল্পিত অ্যাম্বুশের মুখে পড়ে। স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও ল্যান্স নায়েক আবেদ আলী পিছু হটেননি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি নিজের এসএমজি থেকে শত্রুর অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি চালিয়ে সহযোদ্ধাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করেন।
এক পর্যায়ে শত্রুপক্ষের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেডে তিনি আরও গুরুতর আহত হন। মরণাপন্ন অবস্থাতেও শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শত্রুকে প্রতিহত করার অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যান। অবশেষে মাতৃভূমির জন্য জীবন উৎসর্গ করে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
তাঁর অতুলনীয় সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব “বীর বিক্রম”-এ ভূষিত করেন।
৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকীতে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে এই বীর সন্তানকে স্মরণ করছে। তাঁর আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সাহসের অনন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে।
Leave a Reply