
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় এক কৃষকের গোয়াল ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি গরু মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামে রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাকিম মুন্সি জানান, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার গোয়াল ঘরে আগুন দেয় বলে তিনি ধারণা করছেন। এক প্রতিবেশী রাতের অন্ধকারে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে গোয়াল ঘরে আগুন দেখতে পান। তিনি চিৎকার দিলে হাকিম মুন্সি ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখায় গোয়াল ঘর প্রায় পুড়ে যায় এবং সেখানে থাকা পাঁচটি গরুর মধ্যে চারটি দগ্ধ হয়। সেই সঙ্গে খড়ের গাদাও সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। স্থানীয়রা পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু গরুগুলো মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়া থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি পরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কৃষক হাকিম মুন্সির ক্ষতি করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাদের সন্দেহ।
অন্যদিকে, শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল্লাহ জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন,
“সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি সিগারেটের আগুন থেকে হতে পারে কিংবা কোনো দুর্বৃত্তের পরিকল্পিত কাজও হতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গোয়াল ঘরে আগুনের ঘটনায় দগ্ধ গরুগুলো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাকিম মুন্সি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রামের নিরীহ কৃষকদের ক্ষতি সাধন করে এ ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত নাশকতা—তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply