
মালয়েশিয়ায় কর্মরত লাখো বাংলাদেশি প্রবাসী প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বৈধ ভিসা থাকার পরও অনেককে আটক করা, কোম্পানিতে কাজ করেও বেতন না পাওয়া, এবং ভিসা নবায়নে অতিরিক্ত খরচের চাপ — এসব কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বাংলাদেশি প্রবাসীর অভিজ্ঞতা ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেখানে তাদের অভিযোগ স্পষ্ট: “বাংলাদেশ হাইকমিশন যদি সক্রিয় ভূমিকা রাখতো, অনেক সমস্যার আগেই সমাধান সম্ভব ছিল।”
প্রতিদিন মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসছে, বৈধ ভিসা ও কাজের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বহু বাংলাদেশি শ্রমিককে আটক করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রবাসীরা বলছেন, “আমরা অপরাধী নই। শুধু কাগজপত্রের জটিলতা বা কোম্পানির ভুলের কারণে অনেক সময় আমাদের ‘অবৈধ’ ধরা হয়।”
অনেক বাংলাদেশি কর্মী অভিযোগ করেছেন, কাজ শেষ করেও তারা সময়মতো বেতন পান না। কেউ কেউ বলেছেন, “কাজ করি ১২ ঘণ্টা, বেতন পাই না মাসের শেষে। বললে চাকরি চলে যায়।”
তাদের দাবি, বাংলাদেশ হাইকমিশন চাইলে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের (JTK বা MOHR) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।
প্রবাসীরা আরও জানিয়েছেন, আগে যেখানে ভিসা নবায়নে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) খরচ হতো, এখন সেই খরচ EPF (Employees Provident Fund) যোগের কারণে বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
একজন প্রবাসী বলেন, “এই টাকা আমাদের ৩–৪ মাসের কষ্টার্জিত ইনকাম। এতে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে।”
মালয়েশিয়ায় পণ্য ও ভাড়ার দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ প্রবাসীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
বাসা ভাড়া বাদে গড়ে মাসে ৩০০–৪৫০ রিঙ্গিত পর্যন্ত খরচ হয়ে যায় একজন শ্রমিকের। আর নিজে বাসা ভাড়া নিলে খরচ দ্বিগুণ হয়ে যায়।
অনেকের মতে, প্রবাস জীবন এখন লটারির মতো—
কেউ ভাগ্যবান হলে ভালো কোম্পানি ও মানবিক বস পান, কেউ বা প্রতারিত হয়ে সমস্ত সঞ্চয় হারান।
একজন প্রবাসী বলেন, “আমরা শুধু বাঁচার চেষ্টা করি। ঘরে টাকা পাঠাতে না পারলে মা-বাবা খেতে পায় না, ঋণ শোধ হয় না।”
এ বিষয়ে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন মুখপাত্র বলেন,“আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বৈধ শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। যদি কোনো প্রবাসী বেতন না পান বা অন্যায়ভাবে আটক হন, তাহলে তারা সরাসরি হাইকমিশনের শ্রম উইং-এ যোগাযোগ করতে পারেন।”
তিনি আরও জানান,“ভিসা জটিলতা ও শ্রমবাজারের সংস্কার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আমরা চাই, কোনো বাংলাদেশি যেন অবৈধ অবস্থায় না পড়েন এবং তাদের অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা পায়।”
তবে সাধারণ প্রবাসীরা বলছেন, শুধু বিবৃতি নয়—বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা চান,
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। তাদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের অংশও বটে।
যেমন এক প্রবাসী সংক্ষিপ্তভাবে বলেছেন,
“আমরা দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠাই, শুধু চাই—দেশ আমাদের কণ্ঠ শুনুক।”
Leave a Reply