
পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ল্যান্স নায়েক মো. কাজী আবুল বাশার, বীর প্রতীক (ইস্ট বেঙ্গল)-এর আজ ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকী। জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এই বীর সেনাসন্তানকে, যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করে সহযোদ্ধাদের জীবন, মূল্যবান অস্ত্র ও সরকারি সম্পদ রক্ষা করেছিলেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ল্যান্স নায়েক মো. কাজী আবুল বাশার ১৯৮৯ সালে তৎকালীন ৪৩ ইস্ট বেঙ্গল-এর সদস্য হিসেবে পানছড়ি জোনে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৯ সালের ১৬ জুলাই পানছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে অধিনায়কের নিরাপত্তা এসকর্ট বহরের গাড়ির চালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
দুপুর ১টা ২৮ মিনিটে বহরটি মনিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলার (অ্যাম্বুশ) মুখে পড়ে। হামলার শুরুতেই এলএমজির গুলিতে গাড়ির দ্বিতীয় আসনে থাকা হাবিলদার মফিজ উদ্দিন ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। একই সময়ে ল্যান্স নায়েক কাজী আবুল বাশারও বুকে, হাতে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।
মারাত্মক আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি অসাধারণ সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন। নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে তিনি গাড়ির গতি বাড়িয়ে অ্যাম্বুশ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে বের করে আনতে সক্ষম হন। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ফলে গাড়িতে থাকা ৮ জন সৈনিকের জীবন, মূল্যবান অস্ত্র ও সরকারি সম্পদ রক্ষা পায়।
তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
ল্যান্স নায়েক মো. কাজী আবুল বাশারের অসীম সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
তাঁর ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকীতে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে এই বীর সেনাসন্তানকে, যার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Leave a Reply