
রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো চার তরুণ বিষপান করেছেন। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে তারা উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই তারা এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত তরুণরা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের সময় তারা দেশের জন্য চোখ হারিয়েছেন। তখন সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। তারা এখনও অবহেলার শিকার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুলাই ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে চলমান এক বৈঠকের সময় ওই চার তরুণ নিজেদের দাবি নিয়ে তার কক্ষে যান। সিইও তাদের অপেক্ষা করতে বললে, তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানেই বিষপান করেন। ঘটনার পরপরই তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তারা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার পর জনমনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—আহতদের প্রতি রাষ্ট্রের এই দায়িত্বহীনতা কেন? মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এখন সময় এসেছে, আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব প্রকৃত অর্থেই পালন করার। নয়তো এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
Leave a Reply