
ঢাকা, (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং) বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ক্রীড়া ও জনগণের সংযোগকে ভিত্তি করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মনে করেন, এই সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা রবিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উরুগুয়ের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত আলবের্তো এ. গুয়ানির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত গুয়ানি বলেন, বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যে বহু সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি অনাবিষ্কৃত। তিনি বাংলাদেশের সামাজিক ব্যবসার মডেলকে বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে উরুগুয়ে থেকে বাংলাদেশে উল, সয়াবিন ও কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়। যদিও এই পরিমাণ এখনো তুলনামূলকভাবে কম, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাষ্ট্রদূত গুয়ানি আরও বলেন, কৃষি, উৎপাদন, সেমিকন্ডাক্টর, ড্রোন, স্যাটেলাইট ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশেষায়িত প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী জনগণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “উরুগুয়ে ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি দারুণ ভালোবাসা রয়েছে, বিশেষ করে ফুটবলের ক্ষেত্রে। আমরা এই ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারি।”
প্রধান উপদেষ্টা উরুগুয়ের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসার আহ্বান জানান। তিনি উরুগুয়ের নবায়নযোগ্য ও পরিষ্কার জ্বালানি প্রযুক্তিতে দক্ষতা এবং বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদ কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এছাড়া, তিনি রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পরামর্শ দেন।
বৈঠকে এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও উরুগুয়ে কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং ক্রীড়া, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
Leave a Reply