
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া বিজনেস নেটওয়ার্কিং ডিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুরের মিকাসা শপ্পেসের এমেরাল্ড স্পেসে অনুষ্ঠিত নেটওয়ার্কিং ডিনারে বাংলাদেশ থেকে আগত ৩৮ সদস্যের ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, শিল্প উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সক্ষমতাকে পরস্পরের পরিপূরক উল্লেখ করে তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে নতুন অংশীদারিত্বের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের মালয়েশিয়া সফরের উদ্দেশ্য তুলে ধরে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসতে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্সের (এফএমএম) ডেপুটি প্রেসিডেন্ট দাতো গোহ বুন কিম এবং ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়ার (এনসিসিআইএম) প্রেসিডেন্ট নরসিয়ারিন বিন হামিদন। তারা দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক বিনিয়োগ এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) সিনিয়র ডিরেক্টর ড. রশিদি সাইদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোছাম্মৎ শাহানারা মনিকা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। বাংলাদেশি ও মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সরাসরি ব্যবসায়িক সংযোগ বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
নেটওয়ার্কিং ডিনারে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, খাদ্য ও পানীয়, পর্যটন, উৎপাদন, রপ্তানি এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর ডিসিসিআইয়ের উদ্যোগে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও প্রদর্শন করা হয়।
এদিকে, তিন দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল নেটওয়ার্কিং ডিনারের পাশাপাশি ক্লাং চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেয়।
একই দিন বিকেলে প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ার পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ায় স্বাস্থ্য পর্যটন আরও সহজতর করার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বানও জানানো হয়।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
Leave a Reply