1. admin@newsbayanno24.com : admin :
  2. newsbayanno24@gmail.com : newsbayanno24 : নিউজ বায়ান্ন ২৪ ডটকম
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরলেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বাংলাদেশ–ইতালি সম্পর্ক আরও কৌশলগতভাবে সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ সাইবার অপরাধ ও মানব পাচার দমনে সহযোগিতা জোরদারে সিআইডি–এফবিআই বৈঠক জঘন্য অপরাধে দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুয়ালালামপুরে গোপন জুয়ার আসরে ইমিগ্রেশনের অভিযান, বাংলাদেশিসহ ১৫ বিদেশি আটক মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় চালুর জন্য কাজ করছে সরকার: প্রবাসী কল্যাণ সচিব

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মা, বাংলাদেশের মানুষ তার পাশে

সম্পাদকীয়-
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

“স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক প্রতীক, আর আজ যখন তিনি মুমূর্ষু—সমগ্র জাতি করুণায়, প্রার্থনায়, শ্রদ্ধায় একত্র”

 

বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের দিনাজপুর (বর্তমানে বাংলাদেশ)‑এ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তার পিতা মিসকারুদ্দীন বা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মাতা তাইয়েবা মজুমদার-এর সন্তান; পাঁচ ভাই‑বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।

১৯৫৯ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এর সঙ্গে, যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপ্রধান হন।

শিক্ষাজীবনে, ১৯৬০ সালে তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষা পাস করেন এবং পরবর্তীতে দিনাজপুরের Surendranath College-এ পড়াশোনা করেন।

শুরুতে ব্যক্তিগত জীবনকে গুরুত্ব দেওয়াই ছিল তার পথ — তবে রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশ যখন সংকটে, বেগম খালেদা জিয়া তখনই সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
তার স্বামী, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম ১৯৮১ সালে শাহাদাৎ বরন করার পর, ১৯৮৪ সালে তিনি নেতৃত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র।

১৯৮০-এর দশকে, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি বলিষ্ঠভাবে লড়াই করেন; ১৯৮২ সালে ক্ষমতাচ্যুত জেনারেল Hussein Mohammad Ershad এর ডিক্টেটরশিপের বিরুদ্ধে গণজোড়াসহ আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করেন।

এই সময়কালেই তিনি বারবার গ্রেফতার হন — ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে সাতবার আটক ছিল।

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর, ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর জয় এবং ২০ মার্চ ১৯৯১ তারিখে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হন।

এই পদে দেশে ফিরে parliamentary (সংসদীয়) গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠার দিকে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন — ১৯৯১ সালের সংবিধান সংশোধনের পর, নির্বাহী ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের দিকে স্থানান্তর করা হয়।

প্রথম মন্ত্রিসভা (১৯৯১–১৯৯৬) এবং পরবর্তী (২০০১–২০০৬) মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়ার সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় — শিল্পায়নের কিছু অংশ বেসরকারিকরণ, ব্যক্তিগত বিনিয়োগ উৎসাহ, এবং নারী শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার প্রসার।
বিশেষ করে ১৯৯১ সালের পর Cyclone ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়ে, তবু তার প্রশাসন শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারনের চেষ্টা চালায়।

শিক্ষা, অর্থনীতি, নারী উন্নয়ন — এসব ক্ষেত্রে তার চেষ্টা ছিল, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং দেশের গরিব, মধ্যবিত্ত থেকে নারীরা শক্তিশালী হয়। অনেক মানুষ মনে করে, এ সুবিধা এবং সুযোগ‑অভিজ্ঞতার কারণে তিনি মধ্য ও নিম্নবর্গের মানুষের কাছে খুব জনপ্রিয়তা পান।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন নেত্রী নন—বরং এক প্রতীক, এক আশা। বিশেষ করে যিনি সামরিক শাসন, দমন‑নির্যাতন, রাজনৈতিক দমনীর বিরুদ্ধে লড়েছেন।

অনেকের জন্য তিনি “গণতন্ত্রের মা” — কারণ, ১৯৯০-এর দশকে সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন, আর ১৯৯১-এর নির্বাচন ও ক্ষমতায় এসে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। সর্বশেষ ২০০৯ সাল হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এদেশে ভোটাধিকার, গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছিলো স্বৈরাচার সরকার শেখ হাসিনার শাসনামলে। শেখ হাসিনার নানান অন্যায় অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করে এদেশে তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন আপসহীন হিসেবে। তিনি চাইলেই এদেশ থেকে চলে গিয়ে অনেক ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারতেন। কিন্তু এদেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে, স্বৈরাচারের বিভিন্ন লোভনীয় প্রস্তাব নাকচ করে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। তার উপর ভয়াবহ নির্যাতন চলে দ্বিতীয় মেয়াদ শেখ হাসিনার সরকার আসার পর। একে একে সন্তানদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা। কনিষ্ঠ সন্তান স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নির্যাতনে, মারাত্মক অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরন। নিজের জীবনের ঝুঁকি জেনেও নিজেকে সপে দিয়েছেন এদেশের মাঝে।

আইনশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, নীতি ও আদর্শ — দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত, নারী‑যুবক, গরিব‑মধ্যবিত্ত সবাইকে নিজ করে নিয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা, অধিকার, শিক্ষা, সুযোগ‑সুবিধা — এমন অনেক যন্ত্রণার সময়েই বেগম খালেদা জিয়া-এর আপসহীন মনোবল, নেতৃত্ব এবং সহমর্মিতা ছিল তাঁদের পাশে।

এই কারণে, তার জনপ্রিয়তা শুধু একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না — সাধারণ মানুষ, ছাত্র‑ছাত্রী, গরিব, মধ্যবিত্ত, নারীরা সবাই — বহু সময় “তার” নেতা হিসেবে তাকে বরণ করেছে।

রাজনৈতিক জীবনে উত্থান যেমন ছিল, তেমনই গিয়েছে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও। ২০০৭ সালের সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতদর্পণসহ নানা মামলা চালানো হয়। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পরে চলতে থাকি অত্যাচারের স্টিমরোলার। নানা মিথ্যা মামলায় জর্জরিত করা হয় তাকে। খুনি হাসিনা সবশেষ কোনো উপায় না পেয়ে,তাকে ২০১৮ সালে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়; পরবর্তীতে তিনি তার পরিবার ও তার দলের বিরুদ্ধে আরও মামলা হতে থাকে। যা সমালোচিত ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে।

কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়, এবং হাসপাতাল-ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে তীব্র শারীরিক অসুস্থতার শিকার হন।
এই শারীরিক দুরবস্থা, combined with কারাগারে ও বন্দিত্বের সময়ের মানসিক চাপ — সবাইকে চিন্তায় ফেলেছে।

এই মুহূর্তে যখন তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন, পুরো দেশ — রাজনীতি‑অরাজনীতি, ছাত্র‑ছাত্রা, সাধারণ মানুষ— সবাই দোয়া করছে, শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, আশাবাদী যে তিনি দ্রুত সুস্থ হবেন।

বেগম খালেদা জিয়া -এর জীবন এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম ছিল মূলত বাংলাদেশের জন্য — সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের অধিকার। তিনি কখনোই ক্ষমতা রাজনীতি আর ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য রাজনীতি করেননি; বরং রাজনীতি করেছিলেন দেশের ভবিষ্যত ও সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য।

নারী, গরিব, গরিব‑মধ্যবিত্ত, সুবিধা‑বঞ্চিত — এমন অনেক বাংলাদেশের মানুষ তার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পোষণ করেছেন। কারণ তিনি শুধু সরকার করেননি; চেষ্টা করেছেন সুযোগ‑সুবিধা, শিক্ষা ও উন্নয়ন পৌঁছে দিতে — যেখানে আগে ছিল উপেক্ষা।

তার গণতান্ত্রিক বিশ্বাস, আপসহীন মনোভাব, নিজের ন্যায় এবং আদর্শের প্রতি দৃঢ়তা — এসব গুণই আজও তাকে কোটি মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত রাখে।

যখন একটি পুরো জাতি, রাজনৈতিক দল, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, বেকার, কৃষক — সবাই একসাথে হয়, এক মনোবেদনায়, এক প্রার্থনায়, তখন হতে পারে সত্যিকার ঐক্য।

আজ যখন বেগম খালেদা জিয়া অত্যান্ত অসুস্থ; তিনি আমাদের প্রার্থনা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দাবিদার। অতীত ভুল ভুলেও যাক — বর্তমানেই আমাদের প্রতিফলিত করতে হবে মানবতার, সহমর্মিতার, জাতীয় ঐক্যের।

আমরা প্রত্যেকে — নিজ নিজ অবস্থান থেকে — তার জন্য দোয়া করব; তার দ্রুত সুষ্ঠু এবং পূর্ণ সুস্থতা কামনা করব; যেন তিনি আবারও শক্তিশালী হোন, এবং তিনি যেন অনুভব করেন যে, ন্যায্যতার, মানবতার, গণতন্ত্রের পক্ষে যারা ছিলেন — তাদের ভালোবাসা আজও অটুট।

বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের আশা‑আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তার সংগ্রাম, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম, মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক — সব মিলিয়ে তাকে একটি জাতির জন্য ‘নেত্রী’ বা ‘মায়ের’ স্তানে উন্নীত করেছে।

এখন, যখন তিনি মুমূর্ষু অবস্থায়, সমগ্র দেশ — রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে, এক হয়ে দাঁড়িয়েছে তার পক্ষে। এই শুভ কামনায়, আমাদের প্রত্যেকের প্রার্থনা, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা — হতে পারে তার জন্য সামান্য হলেও — শক্তি, সাহস, আর প্রতিজ্ঞা।

আমরা আশা করি সকলের প্রিয় বেগম খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও অনুভব করবেন মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ঐক্য; এবং আমরা নবপ্রজন্মকে মনে করিয়ে দেব, গণতন্ত্র, মানবতা ও ন্যায়ের জন্য লড়াই কখনোই বৃথা নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১-২০২৫ © নিউজ বায়ান্ন ২৪ © গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ও পরীক্ষামূলক অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park