
আজ শহীদ মীর নিসার আলী তিতুমীরের ১৯৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী। উপমহাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতার প্রথম সংগঠিত প্রতিরোধ, কৃষক–তাঁতীদের ঐক্য ও ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াইয়ের প্রতীক হলেন এই মহানায়ক তিতুমীর। তাঁর সংগ্রাম শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ নয়, বরং পরবর্তী শতাব্দীর স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
মীর নিসার আলী তিতুমীর জন্মগ্রহণ করেন ১৭৮২ সালে। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও তাঁর মধ্যে ছিল অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, চরিত্রের দৃঢ়তা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি। তিনি ছিলেন হাফেজে কোরআন, বহু ভাষায় দক্ষ, সুফি আদর্শে বিশ্বাসী এবং ধর্ম–সমাজ সংস্কারক।
ব্রিটিশদের শোষণনীতি, জমিদারদের অত্যাচার ও প্রজাদের উপর আরোপিত অমানবিক রীতি–নীতির বিরুদ্ধে তিনি প্রথম স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন—উপনিবেশের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন ছাড়া মানুষের মুক্তি নেই।
হিন্দু–মুসলিম নির্বিশেষে কৃষক, তাঁতী, শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি গড়ে তোলেন বাংলার প্রথম বৃহৎ সংগঠিত প্রতিরোধ বাহিনী। তাঁর নেতৃত্বে ১৫ হাজারেরও বেশি লোক একত্রিত হয়ে শোষকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন।
এই প্রতিরোধের সর্বোচ্চ প্রতীক ছিল ইতিহাসখ্যাত বাঁশের কেল্লা—সাধারণ মানুষের হাতেই তৈরি, কিন্তু স্বাধীনতার অটল দুর্গ। এই দুর্গ আজও সংগ্রামী চেতনার অনুপম নিদর্শন।
১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ব্রিটিশ বাহিনী আধুনিক কামান, রাইফেল ও সশস্ত্র সেনা নিয়ে বাঁশের কেল্লায় আক্রমণ চালায়। অসম লড়াইয়ে হাজারো প্রতিরোধযোদ্ধা শাহাদাতবরণ করেন। তিতুমীরও ওই লড়াইয়ে শহীদ হন। তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে একটি যুদ্ধ শেষ হলেও স্বাধীনতার আগুন নিভে যায়নি।
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার যুদ্ধ শুধু একটি সংঘর্ষ নয়; এটি ছিল উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রথম বৃহত্তম জন–আন্দোলন। তাঁর সংগ্রামই পরবর্তী পর্যায়ে সিপাহী বিদ্রোহ ১৮৫৭-এর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠে, যা পরে ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথকে সুগম করেছিলো।
শহীদ তিতুমীর শুধু বাংলার নয়, সমগ্র ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথিকৃৎ। তিনি ছিলেন নিঃস্ব মানুষের কণ্ঠস্বর, অত্যাচারের বিরুদ্ধে এক অসীম সাহসী মুজাহিদ এবং ন্যায়বিচারের প্রতীকি আলোকবর্তিকা।
তার সাহস, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার চেতনাকে আজও নতুন প্রজন্ম বহন করে চলুক—এটাই প্রত্যাশা। আমাদের দায়িত্ব তাঁর সংগ্রাম ও আদর্শকে স্মরণ করা এবং জাতীয় চেতনায় লালন করা।
নিউজ বায়ান্ন ২৪ শহীদ মীর নিসার আলী তিতুমীরের স্মৃতির প্রতি জানাচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র সালাম।
Leave a Reply