
ঢাকা, ২০ মে ২০২৫ (মঙ্গলবার): বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আজ রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের pre-announced অবস্থান কর্মসূচি। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে জড়ো হন এবং শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হন।
ছাত্রদলের নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মামলাটি দায়সারা তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রভাবশালীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। নেতাকর্মীরা দাবি করেন, মামলার মূল ঘাতক এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, এবং অনেক আসামির পরিচয় জানা গেলেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বক্তব্যে বলেন, “সাম্য ছিলেন একজন উদ্যমী ছাত্রনেতা এবং প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থী। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে শুধুমাত্র মত প্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার কারণে। আমরা চাই—এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক এবং আইনের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।”
তারা আরও বলেন, “শুধু সাম্য নয়, দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ক্যাম্পাসগুলোতে দলীয় সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ছে। আমরা নিরাপদ, সহনশীল ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস চাই।”
অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে শাহবাগ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা না দিলেও পুরো সময়জুড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী শাহরিয়ার আলম সাম্য গত মাসে এক সহিংস ঘটনায় নিহত হন। তার সহপাঠীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। সাম্যের পরিবারও একাধিকবার অভিযোগ করেছে যে, তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মামলাটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ছাত্রদল আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে যদি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় না আনা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমরা বিচার না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।”
এই আন্দোলন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিচার ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে। ছাত্ররাজনীতি এবং শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। এবার সেই বাস্তবতা আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে শাহরিয়ার সাম্য হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে।
Leave a Reply