
মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজন করেছে মহান স্বাধীনতার ৫৪-তম বার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে একটি কূটনৈতিক সংবর্ধনার। গত ১৬ এপ্রিল ২০২৫, কুয়ালালামপুরের একটি অভিজাত পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার নারী, পরিবার ও কমিউনিটি উন্নয়ন মন্ত্রী দাতো সেরি হাজাহ ন্যান্সি সুকরি প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। মালয়েশিয়ার মেলাকা প্রদেশের গভর্নর ও কুয়ালালামপুরের মেয়র বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় চার শতাধিক অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এ আয়োজনে অংশ নেন মালয়েশীয় সরকারের মন্ত্রীবর্গ, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, চেম্বার নেতা, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, প্রবাসী বাংলাদেশি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিগণ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব শামীম আহসান তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি একটি ন্যয়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের অনন্য নজির। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, শিক্ষা, পর্যটনসহ বহু খাতে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব বিদ্যমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম বাংলাদেশ সফর করেছেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসও শিগগিরই মালয়েশিয়া সফর করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার দৃঢ় সমর্থনের প্রশংসা করেন হাইকমিশনার। পাশাপাশি আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য সকল সদস্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ কর্নারে প্রদর্শিত হয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হস্তশিল্প ও জিআই পণ্য। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি বিষয়ক প্রকাশনাও প্রদর্শিত হয়, যা আগত অতিথিদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটন, সংস্কৃতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আপ্যায়ন পর্বে অতিথিদের জন্য ছিল ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি বিরিয়ানি ও রসগোল্লা। কাচ্চি বিরিয়ানির স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। অতিথিদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয় দৃষ্টিনন্দন জামদানী ও পাটজাত পণ্য।
উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস রমজান মাসে হওয়ায় হাইকমিশন ১৬ এপ্রিল এই সংবর্ধনার আয়োজন করে।
Leave a Reply