1. admin@newsbayanno24.com : admin :
  2. newsbayanno24@gmail.com : newsbayanno24 : নিউজ বায়ান্ন ২৪ ডটকম
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ 

মো. আমানউল্লাহ, কক্সবাজার সংবাদদাতা
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৭১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, নীতিমালা না মেনে পছন্দের শিক্ষকদের নিয়ে ক্লাস রুটিন করে প্রাইভেট বানিজ্য, স্কুলের সম্পদের অপব্যবহার করে টাকা আয় এবং নানান বাহানা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়সহ স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।প্রধান শিক্ষকের এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচিত ৪ জন সদস্য শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।তাঁরা হলেন,অভিভাবক সদস্য ঈদগাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম, শহিদ উল্লাহ মিয়াজী, এস এম সরওয়ার কামাল, রমজান আলী।লিখিত অভিযোগে তাঁরা জানান, ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল  জান্নাত গত ৩ বছরে স্কুল থেকে বিভিন্ন খাতে অন্তত ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে। তার মধ্যে খাতগুলো হলো বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের প্রফিডেন্ট ফান্ড থেকে ২৭ মাসের ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কোন প্রকার রশিদ ছাড়া প্রশংসা পত্র, বোর্ড সার্টিফিকেট ও প্রত্যায়ন ফি বাবদ ২৫ লাখ টাকা, বিদ্যালয়ের ৩৩ টি দোকান বরাদ্ধের আড়ালে বিনা রশিদে সালামীর অতিরিক্ত টাকা ৩৩ লাখ, বিনা টেন্ডারে উন্নয়নের নামে ৩০ লাখ, স্কুলের দোকানের মধ্যে একটি দোকানে বিনা রশীদে ভাড়া আদায় ১ লাখ ৮০ হাজার, ২০২২ ও ২০২৩ সালের ভর্তি ফরমের টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে না দিয়ে আত্মসাৎ ২ লাখ, ২০২২ সালে শুদ্ধ উচ্চারণ প্রশিক্ষণের নামে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী থেকে আমানত ফি গ্রহণ ও আত্মসাৎ ৫ লাখ, বিদ্যালয়ে মার্কেট নির্মাণে অনিয়ম। সব মিলে স্কুল ফান্ড থেকে সর্বমোট ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে যার প্রত্যেকটি প্রমাণ আছে বলে দাবি করে অভিযোগকারীরা।এছাড়াও স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে প্রধান শিক্ষক ইচ্ছামত ক্লাস রুটিন করে পুরো স্কুলকে উনার নিজস্ব শিক্ষক দিয়ে প্রাইভেট বানিজ্যের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে।তার মধ্যে বর্তমান ক্লাস রুটিন অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের কোন ক্লাস নেই। এছাড়া নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী গণিত এবং ইংরেজী বিষয়ে মার্টার ট্রেইনার প্রাপ্ত শিক্ষককে ৬ষ্ঠ এবং ৭ম শ্রেণীতে গণিত এবং ইংরেজী ক্লাস দেয়া বাধ্যতামূলক হলে তা দেয়া হয়নি। নিয়ম না থাকলেও সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ভাবে মোজাম্মেল হক নামের এইচএসসি পাস একজনকে শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ন ক্লাস। নুরুল আবছার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এমপিও ভুক্ত শিক্ষক হলেও তাকে হিসাববিজ্ঞান ক্লাস দেয়া হয়নি। স্কুলে পর্যাপ্ত বিএসসি ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক থাকার পরও অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া খন্ডকালীন শিক্ষক মোহাম্মদ আলম ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় নিয়োগ পেলেও তাকে দিয়ে বছরের পর বছর ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণীর গণিত এবং হিসাবে বিজ্ঞান ক্লাস করে আসছে। একই ভাবে খন্ডকালীন শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে নিয়োগ পেলেও ৯ম, ১০ম শ্রেণীর ইংরেজী ক্লাস করে আসছে যা সম্পূর্ন নিয়ম বহির্ভূত।স্কুলের বিএসসি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন শ্রেনীতে গণিত ক্লাব পেয়েছে ২ টি অথচ কোন যোগ্যতা না থাকা সত্বেও অন্য বিভাগে নিয়োগ পাওয়া খন্ডকালীন শিক্ষক মো: আলম ও দেলোয়ার গণিত পেয়েছে ৩ টি করে ক্লাস।
এ ব্যপারে ঈদগাহ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম জানান, ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে আজকের এই পর্যায়ে আসার পেছনে আমাদের এবং আমাদের পূর্ব পুরুষের অনেক অবদান আছে। কিন্তু বর্তমানের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই স্কুলের সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে কিছু বহিরাগতরা। তার সাথে যোগ দিয়েছে বর্তমান প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল জান্নাত। যার স্বামী নিজস্ব কোন আয় না থাকলেও রয়েছে অনেক প্রতারণা ও চেকের মামলা। কিন্তু সেই প্রধান শিক্ষক অল্প বেতন দিয়ে বর্তমানে কক্সবাজারের সবচেয়ে ব্যায়বহুল থানা রোড়ের পেছনে কোবা টাওয়ারে কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে সেখানে বসাবাস করছে বলে অভিযোগে জানা গেছে । তিনি নিয়মিত স্কুলে আসা যাওয়া করে রিজার্ভ গাড়ী নিয়ে।এদিকে স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণীর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, অনেক অনবিজ্ঞ শিক্ষকদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস গুলো করানো হয়। আর ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে শুরু করে কিছু শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করে। প্রাইভেট না পড়লে নানানভাবে হয়রানী করা হয়। এসব কিছুতে প্রধান শিক্ষক সরাসরি জড়িত।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবী করে প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল জান্নাত। তিনি জানান,স্থানীয় রাজনীতির শিকার আমি। আর আমার সময়ে স্কুলের অবকাঠামোগতসহ শিক্ষার আমুল পরিবর্তন হয়েছে সেটা সবাই জানে। তাই অনেকে অমুলক অভিযোগ করে স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে।
এ ব্যপারে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: সেলিম উদ্দিন জানান, ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়ে কিছু অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে। সে সব বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ব্যপারে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নাছির উদ্দিন জানান, আমার হাতে উক্ত স্কুলের বিষয়ে অনেক অভিযোগ এসেছে।যতটুকু জানি উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত চলছে। আবার আমাদের পক্ষ থেকেও তদন্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2023 নিউজ বায়ান্ন ২৪

প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park