ত্যাগ, তাকওয়া ও সংযমের শিক্ষা নিয়ে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই মহান ঈদ উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমানদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
তার শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, "ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুন্দর ও পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও সহমর্মিতার প্রতীক। এই উৎসব আমাদের হৃদয়ে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। আমি বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও মোবারকবাদ। ঈদ মোবারক।"
তিনি আরো বলেন, "বহু ত্যাগ ও কষ্টের মধ্য দিয়ে আমরা এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি। বীর জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে আমরা একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছি। এবারের ঈদ আনন্দের সঙ্গে উচ্ছ্বাস ও উৎসাহের এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে এই আনন্দের মাঝেও এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যাদের প্রিয়জন হারানোর শোক এখনো তাজা। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের শিকার লাখো পরিবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।"
তিনি বলেন, "ঈদুল ফিতর কেবল আনন্দের উৎসব নয়, এটি আমাদের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্যের শিক্ষা দেয়। সমাজের দরিদ্র, অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে যারা মানুষের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে, যারা অস্ত্রের জোরে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। আইন ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা সন্তানহারা মায়েদের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দিতে পারবো।"
তারেক রহমান আরও বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির মাঝেও ঈদ আমাদের জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি। এদিন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে শুভেচ্ছা ও আনন্দ ভাগাভাগি করি। আমি আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করি, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য।"
তিনি তার বক্তব্যের শেষে বলেন, "আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।"