আজ রাজধানীর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত সশস্ত্র বাহিনী দিবস (Armed Forces Day) উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া গত বছর (২০২৪) একবার দীর্ঘ সময় পর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এই অভিসন্ধি অনেকেই জাতীয় ঐক্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রফেসর ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনায় তার চিকিৎসা বোর্ডের অনুমোদনের ভিত্তিতে তাকে এই অনুষ্ঠানে আসার অনুমতি দেয়া হয়েছে।তার একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে — এই বিষয় সাংবাদিকরা ইতিপূর্বেই আলোচনা করেছে।
অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে, প্রফেসর ইউনূস খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।উত্তরে, খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং তার সহধর্মিণী আফরোজী ইউনূস এর স্বাস্থ্য সম্পর্কে আন্তরিক ন্যূনতা ও শুভকামনা জানায়।সাক্ষাতের সময় খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্রবধূ সৈয়দা শর্মিলা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ধরণের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী প্রতীক হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিতে কম উপস্থিত খালেদা জিয়া ও তার রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রধান উপদেষ্টার আনুষ্ঠানিক সম্ভাষণ এবং সন্মান একটি ‘রূপান্তরমূলক ঐক্য’-সঙ্কেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসে এই সাক্ষাৎ সামরিক ও রাজনৈ তিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক মেসেজ পৌঁছে দেয় যে, রাজনৈতিক বিরোধিতার শুরুর পরেও প্রাতিষ্ঠানিক শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং সীমিত জনমঞ্চে উপস্থিতি সত্ত্বেও, এই ধরণের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌহার্দ্য দেখানো, তার রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবন বা সামগ্রিক জনমুক্তি ইমেজ গঠনের একটি মাইলফলক হিসেবে ধরা যেতে পারে।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও বেগম খালেদা জিয়ার আজকের সাক্ষাৎ কেবল একটি পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময়ই ছিল না এটি একটি প্রতীকী কার্যকলাপ, যা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঐক্য, শ্রদ্ধা এবং সম্ভাব্য জাতীয় সংহতির ছবি কল্পনা করায়। বিশেষ করে এই ধরনের ইভেন্ট, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা সামরিক অনুষ্ঠানে একসাথে উপস্থিত হন, তা সাধারণ জনগণের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পাঠাতে সক্ষম: যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে শ্রদ্ধাশীল সংলাপ এবং পারস্পরিক সম্মান সম্ভব।