গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে শহরের কেডির মোড় এলাকায় নওগাঁ পিএম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাসায় ঢুকে আলিউজ্জামান নামে ওই তরুণকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। আহত তরুণকে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আলিউজ্জামান রাজশাহী বঙ্গবন্ধু কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাঁর বাবা আতিকুজ্জামান আতিক পেশায় চালকল ব্যবসায়ী। আতিকুজ্জামান পরিবার নিয়ে প্রায় ৯ বছর ধরে শহরের কেডির মোড় এলাকায় ‘ক্ষণিকের নীড়’ নামের একটি ভবনের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকছেন। নওগাঁ পৌরসভার সরদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে আলিউজ্জামান বাসায় অবস্থান করছিল। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মো. রিহাদ (২১), মো. স্বাধীন (২২), শ্রী শান্ত (২৩), পরেশ (২০), রিয়াজুল ইসলাম (২০), রিফাত (২২), হান্নান (২২) ও জয় (২২) সহ ২৫-৩০ জন তরুণ বাসায় ঢুকে আলিজ্জামানের ওপর হামলা চালায়। তাঁরা আলিজ্জামানকে এলোপাতাড়ীভাবে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বুধবার গতকাল বিকেলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার বাদী আনিসুজ্জামান বকুল বলেন, ‘আমার ভাতিজা আলিজ্জামানের সাথে আসামিদের পূর্ব বিরোধ ছিল। তবে ঠিক কি নিয়ে বিরোধ তা বিস্তারিত জানি না। শুনতেছি, ১৫ তারিখে (গত মঙ্গলবার) নাকি ওদের মধ্যে কি যেন হয়েছে? কেডি স্কুলের ভেতরে নাকি গ্যাঞ্জাম হইছে। সেটার জের ধরে ওরা আমার ভাতিজাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে। দিনদুপুরে ঘটনা তারপরেও এখনও কেউ গ্রেপ্তার হলো না। মামলার আসামি রিহাদ নামের এক ছেলে এখনও ফেসবুকে আজেবাজে পোস্ট দিয়ে যাচ্ছে।’
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘এ ঘটনায় আহত তরুণ আলিউজ্জামানের চাচা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। দুই দিন আগে নাকি স্বাধীন নামের এক ছেলে আহত হইছে। সেটার জের ধরে গতকাল আলিউজ্জামানের ওপর হামলা হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’