জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং টেকসই ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে পর্যাপ্ত ও সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন, জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে এমন একটি রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে, যা পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য স্বার্থ ও জনগণের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রাখে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
উচ্চপর্যায়ের এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ ও সহযোগিতা জোরদার করা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও অভিযোজন সহায়তার গুরুত্ব আন্তর্জাতিক পরিসরে পুনরায় উঠে আসে।