বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বার্ষিক সামরিক মহড়া ‘আকাশ বিজয়-২০২৬’ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই মহড়া দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত হয়, যার মাধ্যমে বাহিনীর সামগ্রিক অপারেশনাল প্রস্তুতি ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
মহড়ার সমাপনী দিনে বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান বিভিন্ন কমান্ড সেন্টার ও ঘাঁটি পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। তিনি মহড়ার বিভিন্ন ধাপে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।
‘আকাশ বিজয়-২০২৬’ মহড়াটি তিনটি ধাপে পরিচালিত হয়—কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ (COMEX), লজিস্টিক এক্সারসাইজ (LOGEX) এবং লাইভ এক্সারসাইজ (LIVEX)। প্রতিটি ধাপে বাস্তবধর্মী পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি ও কৌশলগত সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।
মহড়ায় বিমান বাহিনীর বৈমানিকসহ সংশ্লিষ্ট সকল সদস্য আকাশযুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কৌশল অনুশীলন করেন। এর মধ্যে ছিল যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে আকাশ হামলা ও ইন্টারসেপশন, শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নজরদারি, রসদ সরবরাহ, সৈন্য ও অস্ত্র স্থানান্তর এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা। এছাড়া শত্রু ভূখণ্ডে ইজেক্ট হওয়া বৈমানিককে উদ্ধার করার জন্য কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (CSAR) অভিযানের অনুশীলন করা হয়।
এবারের মহড়ায় নতুন সংযোজিত অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের ব্যবহার এবং শত্রু ড্রোন মোকাবেলার কৌশলও প্রদর্শন করা হয়। রাতের অন্ধকারে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এয়ারবর্ন ট্রুপস ইনসার্শন অপারেশনসহ নানা জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতি সফলভাবে অনুশীলন করা হয়েছে।
এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার স্কোয়াড্রনগুলো সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণ শনাক্ত করে যুদ্ধবিমান ও মিসাইল ইউনিটের সহায়তায় তা প্রতিহত করার কৌশল প্রদর্শন করে। ঘাঁটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় ভূমিভিত্তিক নিরাপত্তা কার্যক্রমও সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়।
মহড়ায় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, রাডার স্কোয়াড্রন, মিসাইল ইউনিট এবং আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (UAS) সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। পাশাপাশি আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং বিএনসিসির (এয়ার উইং) সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।
গত ৫ এপ্রিল শুরু হওয়া এই মহড়া সিলেট, টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট, শমশেরনগর, বরিশাল, রসুলপুর ও সুধারামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে পরিচালিত হয়।
বিমান বাহিনী সূত্র জানায়, এ মহড়ার মাধ্যমে বিদ্যমান সমরাস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে।