1. admin@newsbayanno24.com : admin :
  2. newsbayanno24@gmail.com : newsbayanno24 : নিউজ বায়ান্ন ২৪ ডটকম
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২০ অপরাহ্ন

মুন্সীগঞ্জে সাংসদের নাম ভাঙিয়ে টেষ্ট পরীক্ষায় ৪ বিষয়ে ফেল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার সুযোগ দেয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

জেলা সংবাদদাতা মুন্সীগঞ্জ-
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ২০৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমণ্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি এসএসসি ২০২৪ বোর্ড পরীক্ষায় সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে নির্বাচনী পরীক্ষায় ৪ বিষয়ে ফেল করা এক শিক্ষার্থীকে বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার্থীর নাম মহুয়া আক্তার, রেঃজিঃ নং ২১১০৭১১৯৪৩। সে লৌহজং উপজেলার মেদিনীমন্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

নির্বাচনী পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে ফেল করার কারনে ১৫ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হওয়া এসএসসি বোর্ড পরীক্ষায় একজন পরীক্ষার্থীকে অংশগ্রহণ করতে দেয়ায় ও বাকিদের না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন অনেক ক্ষুব্ধ।

চলতি এসএসসি পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র মন্ডল ও ম্যানেজিং কমিটি এসএসসি’র নির্বাচনী পরিক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের জানিয়েছিলো এক বিষয়ে ফেল করলেও কাউকেই এসএসসির বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। তবে নির্বাচনী পরীক্ষায় বেশ কিছু শিক্ষার্থী একের অধিক বিষয়ে ফেল করেছে। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ম্যানজিং কমিটি ১ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদেরকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়নি বলেও জানা যায়। কিন্তু বোর্ড পরীক্ষার প্রথম দিন ফেল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহুয়া আক্তার ৪ বিষয়ে ফেল করার পরেও এসএসসি বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে বলে বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে।

এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু স্যার আমাদের কথা শোনেনি। আমরা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আমাদের স্যার পরীক্ষার সুযোগ দিলো না। আমরা পরীক্ষা দিলে অবশ্যই পাশ করতাম। আমাদের জীবন থেকে একটা বছর নষ্ট করে দিলো। আমরা এই স্যারের পদত্যাগ ও শাস্তি চাই। তারা অভিযোগ করে বলেন, তিনি মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে ৪ বিষয় ফেল করা মহুয়া আক্তারকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দিয়েছে। তিনি এরকম অনৈতিক কাজ প্রায়ই করে থাকেন বলে জান গেছে। তবে ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্যকে ম্যানেজ করে এই ধরনের অনৈতিক কাজ করেও পার পেয়ে যান বলে জানা গেছে। তাদের এই সকল অনৈতিক কাজের ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননা। যদি কেউ কথা বলে তাহলে তাকে বিভিন্ন হয়রানীর স্বীকার হতে হয় তাই সবাই চুপ থাকেন। সে দিনের পর দিন বিভিন্ন অপকর্ম করে কি ভাবে পার পেয়ে যায়, তার এত বড় খুটির জোড় কোথায় তা নিয়ে অভিভাবক গন হতাশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান,
আমাদের সহপাঠী মহুয়া আক্তার এর পিতা জাহাঙ্গীর ও তাদের আত্মীয়রা প্রভাবশালী হওয়াতে ৪ বিষয়ে ফেল করার পরেও টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা দিচ্ছে মহুয়া আক্তার। আমাদের প্রধান শিক্ষক আমাদের নিম্ন/ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের দেখতে পারেন না। আবার আমাদের বাবা-মা বিষয়গুলো নিয়ে আসলে তাদেরকেও অপমান করে বের করে দেয় এজন্য আমাদের ক্ষোভ থেকে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ ও চাকুরী থেকে বহিস্কার চাই। অন্যথায় আমরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করবো।

গোপন সুত্রে জানাগেছে, এক বিষয় ফেল করা কোনো শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ না দিলেও ৪ বিষয় ফেল করা মহুয়া আক্তারকে মুন্সীগঞ্জ ২ আসনের এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি’র পিএস মোঃ নাসির এর চাপে পড়ে প্রধান শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র মন্ডল এসএসসি পরিক্ষা দিতে সুযোগ দেন সেটাও গোপনে। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এসএসসির প্রথম পরীক্ষার দিন পরীক্ষা কেন্দ্র হলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় গেইট এর সামনে থেকে। মহুয়া আক্তার পরিক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় তার সহপাঠী শিক্ষার্থীরা তাকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখে চমকে যায়, একে অপরকে বলতে থাকে, যেখানে ১ বিষয়ে ফেল করেও সুযোগ পেল না পরিক্ষা দিতে। সেখানে ৪ বিষয় ফেল করে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ কিভাবে পেল? এই প্রশ্ন ও তথ্যটি ছড়িয়ে পরে চারদিকে। আলোচনা-সমালোচনার ঝড় পেরিয়ে সকলের কান পর্যন্ত পৌছে যায় আনোয়ারা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুর্নীতির বিষয়।

বিদ্যালয় সুত্রে জানাযায়, এবছর ১১৩জন শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষা দিয়েছে। টেস্ট পরিক্ষায় ৭৪জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এবং মহুয়া নামের ছাত্রীটি ৪ বিষয় ফেল করার পরেও প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় পরীক্ষা দিচ্ছে। এবছর মহুয়া সহ মোট ৭৫ জন পরীক্ষা দিচ্ছেন বলেও জানাযায়। এবং ১৮জন বিশেষ পরীক্ষার্থী রয়েছেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম খান খোকন বলেন, তারা বোর্ড থেকে অনুমতি নিয়েছে। তাই আমি প্রধান শিক্ষককে বলেছি প্রতিষ্ঠানের কোন সমস্যা না হলে আপনি ব্যবস্হা নিতে পারেন।

এমপির পিএস নাসিরের সাথে কথা হলে তিনি দোষ এড়িয়ে বলেন, ইন্ড দ্যা টাইম আমাকে অনুরোধ করেছে। তাই আমি প্রধান শিক্ষককে বলেছি যদি সম্ভব হয় তাহলে দিয়ে দেন। তবে এ কাজটি করা তাদের অনৈতিক হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এমপি বিষয়টি জানে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি না জানে তাহলে কি আমি শুপারিশ করেছি নাকি।

প্রধান শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র মন্ডল বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম খান খোকন এবং এমপি’র পিএস নাসির পরীক্ষার আগের দিন দুপুরে আমাকে মোবাইল ফোনে বললে চাপের মুখে আমি ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কাছে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহুয়াকে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৪ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করি। কিন্তু ফরম পূরণের সময় আমি অসুস্থ্যতার কারণে দেশের বাহিরে ছিলাম।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা। যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2023 নিউজ বায়ান্ন ২৪

প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park