1. admin@newsbayanno24.com : admin :
  2. newsbayanno24@gmail.com : newsbayanno24 : নিউজ বায়ান্ন ২৪ ডটকম
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১:৪৯ অপরাহ্ন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান বীর প্রতীক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৫৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান বীর প্রতীক (৬৬) আর নেই। তিনি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে বৃহস্পতিবার (২২-১২-২০২৩ ইং) রাতে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান উপজেলার মৌছা গ্রামে ১৯৫৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একই উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭৪ সালে জেলার সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। সেখানে তিনি খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮০ সালে বিজেএমসিতে হিসাব সহকারী ও খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন।

মতিউর দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের বনগাঁও টালিখোলা ক্যাম্পে ১৪ দিনের গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সেখানে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী তাঁর খেলাধুলার পারদর্শিতা ও সাঁতারের পারঙ্গমতার কথা শুনে তাঁকে নৌকমান্ডো প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য পাঠিয়ে দেন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশী ক্যাম্পে। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে মতিউরসহ অন্যান্য নৌকমান্ডোদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন নৌ-বন্দর ও সমুদ্র বন্দরে অভিযান পরিচালনার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আগস্টের প্রথম ও শেষদিকে মতিউর নারায়ণগঞ্জ নৌ-বন্দরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন চালান।তাঁর বিভিন্ন অপারেশনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অপারেশন ‘কাঁচপুর ফেরিঘাট অপারেশন’। এই অপারেশনে মতিউর দুটি ফেরিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইন স্হাপন করে সফলভাবে তীরে ফিরে আসেন।এটি ছিল একটি ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন। কারণ, এ ধরনের অপারেশনে কারও জীবিত অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সে কারণে তাঁকে অপারেশনে যাওয়ার প্রাক্কালে ‘ডেড স্যালুট’ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ফিরে আসার সাথে সাথে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ফেরি দুটি উড়ে যায়। তাঁর এই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ পদে ভূষিত করে।

মুক্তিযুদ্ধ শেষে মতিউর রহমান পুনরায় পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেন। মতিউর রহমান ছিলেন একজন চৌকস ক্রীড়াবিদ। ১৯৭২ সালে জাতীয় আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সারা বাংলাদেশে মতিউর রহমান বর্শা নিক্ষেপে প্রথম স্হান অধিকার করেন।

শুক্রবার বাদ জুমা সাতঘড়িয়া কবরস্থান মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে একই কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজার আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মতিউর রহমান বীর প্রতীককে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিউজ বায়ান্ন ২৪ পরিবার তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। তাহার জান্নাত কামনা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2023 নিউজ বায়ান্ন ২৪

প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park