1. admin@newsbayanno24.com : admin :
  2. newsbayanno24@gmail.com : newsbayanno24 : নিউজ বায়ান্ন ২৪ ডটকম
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:১৯ অপরাহ্ন

গাজীর এপিএসের নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জের অপরাধ জগৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৫৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এমদাদুল হক ওরফে দাদা এমদাদ। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন গোটা উপজেলা জুড়ে। তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থানায় অসংখ্য মামলা রয়েছে। অনুসন্ধান বলছে, চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীদের নিয়ে তিনি জিম্মি করে রেখেছেন রূপগঞ্জকে।

নিরীহ মানুষের জমি দখল, খুন, গুম, ধর্ষণসহ গুরুতর সব অপরাধ করে বেড়াচ্ছেন। রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ কেউ আইনের আশ্রয় নিলেও বিভিন্ন মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রভাব-প্রতিপত্তির জোরে সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। উল্টো মামলা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই এই সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যাঁরা এসব সন্ত্রাসীকে উসকে দিচ্ছেন, তাঁরা যত বড় দায়িত্বশীল পদে থাকুন না কেন, কোনোভাবে এসব অপরাধের দায় এড়াতে পারেন না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে। নাহলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়ম করে পুরো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

রূপগঞ্জেরচনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার হাসমত দয়ার  ছেলে শমসের আলী খান ওরফে ডাকু শমসের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শমসেরের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচনের আগেই রূপগঞ্জ থানায় হওয়া ১৩টি মামলার আসামি ছিলেন। ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, গুম, খুন, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তারহাতে। চনপাড়ার বাসিন্দাদের মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে যুক্ত হতে বাধ্য করেন।

সম্প্রতি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা সুমাইয়া আক্তারের (২০) ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান শমসের। প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে আলোচিত চনপাড়া বস্তিতে ডনগিরি করছেন শমসের। মাছিমপুর এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে তাওলাদ মেম্বার।এলাকায় নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড করে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। মন্ত্রীর এপিএস ‘এমদাদের লোক’ পরিচয়ে দেদার অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। রূপগঞ্জ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর, অবৈধ অস্ত্র বহনএবং মাদকের দুটি মামলা রয়েছে (নম্বর ১১(১০)২২ও ২২(৮)২৩)। সোনারগাঁ থানায় আছে আরো একটি মামলাএবং সাধারণ ডায়েরি (জিডি)।

একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে শেখ ফরিদ মাসুম ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় সরকারি ও সাধারণ মানুষের সম্পদ লুটপাটের বিস্তর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অপরাধের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির দায়ে রূপগঞ্জ থানায় রয়েছে চারটি মামলা (নম্বর ৯৯(৫)১৮, ২৭(৬)১৬, ৪১(২)০৩ ও৩৫(১০)০৬)।বর্তমানে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দল ও সংগঠনের নীতিবিরোধী বক্তব্য দিয়ে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছেন।

পূর্ব কালাদী গ্রামের সুরুজ মিয়া মুন্সীর ছেলে মো. আলী হোসেন ওরফে আলী বান্দা মন্ত্রীর এপিএস এমদাদের ছত্রছায়ায় নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে (নম্বর ৩৮(১২)২২)। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ভূমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেন। জানা গেছে, কাঞ্চন পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রসুল কলির শিষ্য তিনি। তবে অপকর্ম করে বেড়ান এমদাদের ছত্রছায়ায়।

রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নে আরেক আতঙ্কের নাম তোফায়েল আহমেদ আলমাছ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে মামলা রয়েছে। সর্বশেষ মুড়াপাড়ার ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে যুবলীগ কর্মী সুমন মিয়া। তাঁকে দিনের বেলা প্রকাশ্যে পিটিয়েও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে তোফায়েল আহমেদ আলমাছ কে। এর আগেও এক ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে এবং এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। মুড়াপাড়ার শিল্পপতি রাসেল পার্কের স্বত্বাধিকারী রাসেল ভুঁইয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়। ফাঁসির আসামি হয়েও জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্য ও তদবির কাজে লাগিয়ে ২০১৬ সালে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বনে যান তিনি।চেয়ারম্যান হওয়ার পর তাঁর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরও বাড়তে থাকে।

উক্ত অপরাধ জগতের বিষয়ে জানার জন্য গোলাম দস্তগীর গাজীর এপিএসের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে, তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2023 নিউজ বায়ান্ন ২৪

প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park