1. admin@newsbayanno24.com : admin :
  2. newsbayanno24@gmail.com : newsbayanno24 : নিউজ বায়ান্ন ২৪ ডটকম
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:৪১ অপরাহ্ন

খানসামায় ইঁদুরের গর্তের ধানে নিম্ন আয়ের মানুষের নবান্ন উৎসব

শফিকুল ইসলাম সোহাগ খানসামা (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৮২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

চলতি আমন মৌসুমে ধান কাটা শুরু হয়েছে সারা দেশে। একইসঙ্গে জেলায় জেলায় চলছে নবান্ন উৎসব।

পাকা ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের  খানসামা উপজেলার  কৃষকরা। সোনালি ধানের ঘ্রাণে ভরে আছে কৃষকের মাঠ ও আঙ্গিনা।

শীত আসার আগে ভাগে ধান ঘরে তুলতে পেরে কারো কারো মুখেও ফুটেছে খুশির ঝিলিক।
প্রতি বছরের মতো মাঠে মাঠে ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান বের করছে শিশুরা।

এসব ধান কুড়ানি শিশুরা প্রতিদিন দলবেঁধে ছুটে যায় ফসলের মাঠগুলোতে। চলতি মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই ঘিরে যখন গৃহস্থ পরিবারের উৎসব চলছে।ঠিক তখনই ভূমিহীন পরিবারগুলোর শিশুরা খুঁজে বেড়াচ্ছে কৃষকের কেটে নেওয়ার সময় ঝরে পড়া ধান। সকাল বা বিকেলের মিষ্টি রোদে হাতে ব্যাগ ও কোদাল  আর বাশিলা  নিয়ে মাঠে মাঠে ইঁদুরের গর্ত থেকে ধানে ভাগ বসাচ্ছে তারা।

ক্ষেতজুড়ে দলবেঁধে ছুটে বেড়ানো শিশুরা ৫ থেকে ৬ কেজির মতো ধানের শিষ কুড়িয়ে থাকে। যখন ধানের পরিমাণ বেশি হয় তারা বেচে দেয়। অনেকে আবার পিঠাপুলি খাওয়ার জন্য জমিয়ে রাখে সেই ধান। এ ধান কুড়িয়ে কারো আবার বছরের একবেলা খাবার কিংবা বছরে অন্তত একদিন পিঠা খাওয়ার সুযোগ হয়।

দিনাজপুরের  খানসামা  উপজেলার খামারপাড়া  ইউনিয়নের নেউলা গ্রামের কাউয়ার দোলা  ক্ষেতগুলোতে ধান কুড়াতে ব্যস্ত শিশু সেলিম (১০) গুলজার  (৮) ও সাদেকুল  (৭)

ওদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, কৃষকরা যখন ক্ষেত থেকে ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক ধানের ছড়া এমনিতেই পড়ে থাকে সেগুলো তারা কুড়িয়ে নেয়। এছাড়া ক্ষেতে ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে পাওয়া যায় অনেক ধান। যখন তাদের ব্যাগে ধানের পরিমাণ বেশি হবে তখন তা বিক্রি করবে বা বাড়িতে নিয়ে জমিয়ে রাখবে পিঠাপুলির স্বাদ নিতে।

কৃষক আজিজুল  বলেন, আগে মাঠজুড়ে ধান কুড়ানি শিশুদের আনাগোনায় বেশি থাকত। তখনকার সময়ে ধান কাটার একটা উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। এখন সবকিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে, শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে। অনেক শিশুদের এখনও মাঠে দেখা যাচ্ছে ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান কুড়াতে।

ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান সংগ্রহ করতে আসা সেলিম হোসেন  (১০)  বলেন,  আমার বাবা মা  অন্যের জমিতে কাজ করে । আমন মৌসুমে আমরা খেত-খামার থেকে ধানের শিষ সংগ্রহ করি। অভাব অনটনের সংসারে ধান কুড়িয়ে শীতের সময় পিঠা খাব

সব গর্ত খুঁড়ে ধান পাওয়া যায় না। কোনো কোনো গর্তে ভালো ধান পাওয়া যায়। আবার কোনো গর্তে কিছুই পাওয়া যায় না। তবে এ কাজ করতে সাপের ভয়ও আছে। কারণ ইঁদুরের গর্তের মধ্যে অনেক সময় আবার সাপ থাকে। তার পরও পেটের দায়ে জীবন বাজি রেখে আমাদের এই কাজ করতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2023 নিউজ বায়ান্ন ২৪

প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park